পেকুয়া প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মোকতার বাহিনী’র একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষ। এবার উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া এলাকায় একটি মৎস্য প্রজেক্টে সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ লুটের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে চিহ্নিত এই যুবলীগ নেতা মোকতার ও তার বাহিনীর নাম।

শনিবার দিবাগত ভোররাতে উজানটিয়ার করিয়ারদিয়া পুরাতন ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শাহাব উদ্দিন, ইসমাইল ও জয়নাল নামের তিন ঘোনা কর্মচারী।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় একের পর এক মৎস্য প্রজেক্ট দখল ও লুটপাটের নব্য সামাজ গড়ে তুলেছেন মাতারবাড়ি ওয়াপদাপাড়ার উকিল আহমদের ছেলে মোকতার। শনিবার ভোরে মোকতারের নির্দেশে মহেশখালী থেকে আসা একদল সশস্ত্র বাহিনী প্রজেক্টের পাহারাদারদের ওপর বেপরোয়া গুলি চালায়।

সিরাজ মেম্বারের প্রজেক্ট বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করা আহত শাহাব উদ্দিন জানান, মোকতার বাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রজেক্টের ঘের থেকে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে চম্পট দেয় সন্ত্রাসীরা। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ওয়াপদাপাড়ার মোকতারের নেতৃত্বে এলাকায় একটি সুসংগঠিত সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তার ভাই আক্কাস, মহেশখালী নলবিলার সাকের উল্লাহ ও কবির আহমদ এবং রাজঘাটের হারুণ। অভিযোগ রয়েছে করিয়ারদিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মৎস্য প্রজেক্ট দখল, প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ, মাছ লুট এবং নিরীহ মৎস্যচাষিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাই মোকতার বাহিনীর মূল পেশা।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মোকতার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যুবলীগ নেতা মোকতারের এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় পেছন থেকে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা, যার ফলে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এই বাহিনী।

ঘটনার বিষয়ে ও অভিযুক্ত মোকতারের বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক দখলাভিযানের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এই বিষয়ে আমার কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি।

তবে মোকতার বাহিনীর অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলায় পেকুয়া ও মহেশখালী সীমান্তবর্তী করিয়ারদিয়া জুড়ে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মৎস্যচাষিরা অবিলম্বে মোকতারসহ তার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।